
মায়নামারের সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মায়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে- এমন চার দেশের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার দুপুরে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও লাওসের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এ সহায়তা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
বৈঠকে ১০ লাখের বেশি মায়ানমার নাগরিকের আশ্রয় গ্রহণে বাংলাদেশ যে গভীর সঙ্কটে পড়েছে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়াও, রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রশ্নে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় উদ্যোগের বিস্তারিত অবহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওই চার দেশের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়টি তাদের দেশে জানাবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের তরফে এই ইস্যুতে কি সহায়তা দেয়া হবে তা স্পষ্ট করে বলেন নি।
বৈঠকে ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভেলায় ভেসে বাংলাদেশে অর্ধশত রোহিঙ্গা
প্লাস্টিকের জেরিক্যান আর বাঁশ দিয়ে ভেলা বানিয়ে তাতে ভেসে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৫২ রোহিঙ্গা।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওই দলটি নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বুধবার সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বিজিবি-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম জানান, ভেলায় করে আসা এই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২২টি শিশু, ১৭ জন নারী এবং ১৩ জন পুরুষ। তাদের উদ্ধার করে আপাতত বিজিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ওই দলের সঙ্গে বাংলাদেশে পৌঁছানো মায়ানমারের বুচিডং শহরের চিংঅং গ্রামের নুরুল কবির জানান, নৌকা না পেয়ে চার দিন ধরে চেষ্টা করে জেরিক্যান আর বাঁশ বেঁধে ওই ভেলা তৈরি করেন তারা। সবাইকে ভেলায় তোলার পর মংডু শহরের দংখালি গ্রাম থেকে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে তারা বাংলাদেশের দিকে বৈঠা চালাতে শুরু করেন।
নাফ নদী পাড়ি দিয়ে সকালে তারা শাহপরীর দ্বীপ এলাকার জালিয়াপাড়ায় পৌঁছালে বিজিবির সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন।
যে এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ওই ভেলা বাংলাদেশে পৌঁছেছে, সেখানে নাফ নদী প্রায় তিন কিলোমিটার চওড়া। তবে আরও উজান থেকে রওনা হতে হয়েছে বলে তাদের বেশ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।
ত্রিশোর্ধ নুরুল কবির বলেন, রাখাইনে সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের অত্যাচার এখনো চলছে। এখনো রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত আড়াই মাসে বহু রোহিঙ্গা প্রাণ হাতে নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারলেও এখনও কিছু গ্রামে, বহু রোহিঙ্গা আটকা পড়ে আছে বলে জানান তিনি।