
শাক-সবজি ও ভোজ্য তেলসহ প্রায় অর্ধসহস্র খাদ্যসামগ্রীতে মানবদেহের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত কেমিক্যাল পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউিটের ‘ন্যাশনাল ফুড সেফটি (এনএফএসএল)’এর তত্ত্বাবধানে ‘অ্যান অ্যাপ্রেইজল অব ফুড সেফটি সার্ভে ইন বাংলাদেশ সেকেন্ড রাউন্ড সার্ভে’-এর ২০১৬-১৭ সালে পরিচালিত এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার দুপুরে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অব হর্টিকালচার প্রোডাক্টস অ্যান্ড আদার ফুড কমোডিটিজ ফর কেমিক্যাল কন্টামিনেশন অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজিক্যাল অ্যাট এনএফএসএল: অ্যান অ্যাপ্রাইজাল অব ফুড সেফটি সার্ভে ইন বাংলাদেশ-সেকেন্ড রাউন্ড’ শীর্ষক জরিপের প্রাপ্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, রাজশাহী, ফরিদপুর, পাবনা ও যশোর এ পাঁচ শহর থেকে ঘি, সরিষা ও সয়াবিন তেল, সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, ফুলকপি, বেগুন, শিম, কাঁচা মরিচ, টমেটো ও নুডুলসের প্রায় পাঁচশ নমুনা সংগ্রহ করে পেস্টিসাইড, রং, আফলা টক্সিনের উপস্থিতি ও মাইক্রোবায়োরজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়।
নমুনাসমূহ ফুড গ্রেড ব্যাগে সংগ্রহ এবং নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী এনএফএসএলে প্রেরণ, সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্ধারিত পরীক্ষা পদ্ধতি যা এনএফএসএলে ভেলিডেটেড এবং পাবলিশড পরীক্ষা পদ্ধতিতে করা হয়। মাইক্রোবায়েলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ব্যাগে, নির্দিষ্ট নিয়মে নমুনা সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং পরীক্ষা করা হয়।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও সুপার শপ থেকে বিভিন্ন ব্যান্ডের ৫৫টি নুডলসের মধ্যে ১৪টিতে বিভিন্ন মাত্রায় টেস্টিং সল্ট, লেড ও প্রোটিনের নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে পরিমাণ কম পাওয়া গেছে। এছাড়া এসব পণ্যের মধ্যে পাঁচটি ব্র্যান্ড ও ১০টি করে খোলা নমুনা নিয়ে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষায় একটি ব্র্যান্ড ও আটটি খোলা লাচ্ছা সেমাইয়ে মোল্ডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সয়াবিন তেল খোলা ১৮টি, ব্র্যান্ড ৯টি, সরিষা তেল খোলা ১৮টি, ব্র্যান্ড ১৩টি, ঘি খোলা ১৮টি, ব্র্যান্ড ২০টি পণ্যের মধ্যে মাত্র একটি ব্র্যান্ড ও দুটি খোলা সয়াবিন তেলের নমুনায় গুণগত মান অনুযায়ী পাওয়া যায়।
পাশাপাশি ঢাকা শহরের ৪৬টি থানায় অবস্থিত স্কুলের সামনে থেকে ৪৬টি ঝালমুড়ি, ৩০টি ফুচকা, ১৬টি ভেলপুরি, ৪২টি আচারের নমুনা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল টেস্ট করে ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ ভেলপুরি, ফুচকা ও ঝালমুড়িতে ইকোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।
এছাড়া সংগ্রহকৃত ৫টি ভেলপুরি ও ৩টি ঝালমুড়ির নমুনায় টাইফয়েডের জীবাণু সালমোনিলা পাওয়া যায়। ১২টি ভেলপুরির মধ্যে ৭৫ ভাগ, ৩০টি ফুচকার মধ্যে ১০০ ভাগ, ১৩টি ঝালমুড়ির নমুনা ও ৪টি আচার স্যাম্পলে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে ইস্ট মোল্ড পাওয়া যায়।