
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগে বিচার বিভাগ ভারমুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের কোনো লোক যদি কোনো রকম দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকে, নৈতিক স্খলনের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে কোনো ক্রমেই তার বিচার বিভাগে থাকা উচিত নয়।
রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিরা বসতে অনিহা প্রকাশ করেছেন, যা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইডে প্রকাশ করা হয়েছে। সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে অন্য বিচারপতিরা এজলাসে বসতে না চাইলে তার পদত্যাগ করা ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘এখন যারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা করছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন এগুলো অপ্রাসঙ্গিক। বিচার বিভাগের কোনো লোক যদি দুর্নীতি করে তাহলে তার পদে থাকা উচিত নয়।’
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে কোনো ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি পদে কাউকে নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হিসেবে এই (প্রধান বিচারপতি) পদে দায়িত্ব পালন করবেন।’
মাহবুবে আলম বলেন, ‘সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ পর্যন্ত যতগুলো রায় ঘোষণা করেছেন সেগুলোতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না।’
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করায় ষোড়শ সংশোধনীর রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদনে শুনানিতে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।
দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তার মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিকে বিদেশে যেতে দেওয়া এবং সেখান থেকে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ায় সরকারের গাফিলতি আছে কি না-প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সরকারের কোনো গাফিলতি নেই। একটি ব্যক্তির ব্যাপারে যদি কোনো অভিযোগ থাকে এবং সবচেয়ে বড় কথা তিনি প্রধান বিচারপতি, তার ব্যাপারে তো সাধারণ আদালতে গিয়ে মামলা করা যায় না।
তিনি আরো বলেন, এটা রাষ্ট্রপতির গোচরে গেছে, রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারকদের এটা জানিয়েছেন। অন্যান্য বিচারপতিরা তার সঙ্গে বসতে রাজি হননি। এটিই হলো বাস্তব এবং আমাদের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে কোনোদিন এ ঘটনা ঘটেনি যে, সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উনার সঙ্গে না বসার কারণ দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়েছে।
ফলে এখন যারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ নিয়ে নানা রকম বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাচ্ছে এবং নানা রকম বক্তব্য দিচ্ছে এগুলো অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয় এবং শুধুমাত্র রাজনীতির খাতিরে তারা এগুলা বলছে।
প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়ায় এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত হবে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, এটা রাষ্ট্রপতির বিষয়। রাষ্ট্রপতি কী করবেন, এটা রাষ্ট্রপতিই জানেন।