
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্কট রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, দুদককে এই আস্থার সঙ্কট কমাতে হবে। সব অপরাধীর সঠিক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক পরিচালিত গণশুনানি: কার্যকারিতা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো এমন কোনো অবস্থানে যেতে পারেনি যে, দুদকে সম্পূর্ণ ‘ক্লিন’ একটা প্রতিষ্ঠান বলা যায়। তবে সেদিকে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সেই সম্পর্কে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, গণশুনানি দুর্নীতি দমনের একটি হাতিয়ার। এসব শুনানি ধরে যদি সব ঘটনাকে ধারাবাহিকভাবে ফলো-আপ করা যায় তাহলে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যাবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। তবে আমরা দেখেছি দুদক ইতিমধ্যে অভিযু্ক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিশেষ করে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এটা বেশ ইতিবাচক দিক।
ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, তবে সমস্যা এখনো আছে। এখনো যাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অভিযোগ পাচ্ছি সেগুলো আমরা দুদকের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ পরামর্শ দিচ্ছি। দুদক সেই অনুযায়ী কাজ করারও চেষ্টা করছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরো বলেন, দুদকের প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্কট কমাতে হবে। সব অপরাধীর সঠিক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ ধরে ধরে সমাধান করতে হবে। মানুষকে বুঝাতে হবে দুদকে অভিযোগ করলে সমাধান পাওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। এটা দুদককে নিশ্চিত করতে হবে। এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব দুদকের।
অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন দুদকের গবেষক মো. ওয়াহিদুল আলম, মো. রেযাউল করিম ও মো. শহীদুল ইসলাম।
দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত গণশুনানিতে যেসব অভিযোগ উঠে আসে তার মধ্যে ৭৩ শতাংশই সমাধান হয় না। বাকি ২৭ শতাংশ সমাধান হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাধানের হার কম হলেও গণশুনানির পর অভিযোগ নিরসনে কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ ইতিবাচক। প্রায় ৭২ শতাংশ অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ধরন বিশ্লেষণে প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলা ভূমি অফিস ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠে এসেছে গণশুনানিতে। ৬৭ শতাংশ অভিযোগ ছিল এদের বিরুদ্ধে। আবার অভিযোগের সমাধানের ক্ষেত্রেও ভূমি অফিসগুলো পিছিয়ে।
গবেষণাটির সময়কাল ছিল গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত।