
মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পলিটিকাল অ্যাফেয়ার্স থমাস এ শ্যানন ঢাকায় আসছেন আগামী ৫ নভেম্বর। শুক্রবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।
৫ ও ৬ নভেম্বর দুদিন ঢাকায় অবস্থান করবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব সংলাপে সহ-নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি সরকারি ও এনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়েও আলোচনা করবেন থমাস এ শ্যানন।
ঢাকায় দুদিন সফরের পর শ্রীলঙ্কায় যাবেন তিনি। সেখানে কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপে অংশগ্রহণ করবেন থমাস এ শ্যানন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে আর্থিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের
বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ, স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে আর্থিক ও কূটনৈতিক উভয় ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রণায়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠককালে সফররত মার্কিন জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হেনশো-এর বৈঠককালে তিনি এই আশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। খবর বাসসের।
সাইমন হেনশো প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বৈঠকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম (ডিআরএল) বিষয়ক মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্কট বুশবে, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক (এসসিএ) ভারপ্রাপ্ত উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বাজদা, মেইনল্যান্ড এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় কার্যালয়ের পরিচালক প্যাট্রিসিয়া মাহডাশ এবং বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক উভয় পক্ষ বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মায়ানমার সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়।
ভারপ্রাপ্ত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ছয় লক্ষাধিক মায়ানমার নাগরিকের অস্থায়ী আশ্রয়দানে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ভুয়সী প্রশংসা করেন এবং এই নজিরহিীন মানবিক সঙ্কটে বাংলাদেশের সাড়াদানকে অত্যন্ত চমৎকার বলে বর্ণনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দৃঢ় রাজনৈতিক সহায়তার জন্য সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান চায় ইইউ
তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোফ স্টাইলিয়ানিদেস বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি রাজনৈতিক সমস্যা এবং রাজনৈতিকভাবে এর সমাধান করতে হবে।
সফরের শেষদিনে বুধবার ঢাকাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বিকেলে তিনি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সেখানেই এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সঙ্কটের সমাধান কেবল রাজনৈতিকভাবেই হতে পারে। এই সঙ্কটের মূল কারণ মায়ানমারেই নিহিত আছে, সে ব্যপারে ইউরোপিয় ইউনিয়ন অবগত আছে। রাখাইন রাজ্যের মানবিক পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমার এই সফরের মাধ্যমে এই সমস্যার দিকে বিশ্বের মনোযোগ বেশি করে আকৃষ্ট করতে চাইছি।’
আলোচনা চালিয়ে যাবার জন্য ইইউ সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছে মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন ক্রিস্টোফ স্টাইলিয়ানিদেস।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার জন্য তিনি বাংলাদেশের সরকার এবং স্থানীয় জনগনকে ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি অর্থ সহায়তা দেবার জন্য জেনেভায় অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের যে তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি ইইউ দেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি এদিন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে জেনেভায় রোহিঙ্গাদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে সম্মেলন হয়েছে, তারপরই আমি এখানে এসেছি। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেবে ইইউ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। আমাদের এই আর্থিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমি খুশি, কারণ এটি আমাদের নীতিগত কাঠামোর একটি অংশ বলে আমি মনে করি।’
তবে, কবে নাগাদ এই অর্থ বাংলাদেশে পৌঁছবে বা ঠিক কীভাবে এই জরুরি সাহায্য দেয়া হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু উল্লেখ করেনি তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেবার জন্য বাংলাদেশ এবং মায়ানমার দুই দেশকেই আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আমি আশা করি, রোহিঙ্গারা নিরাপদে এবং মর্যাদার সাথে নিজের দেশে মায়ানমারের রাখাইনে ফিরে যাবে। বিষয়টি নিয়ে আমি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদার সাথে দেশে ফেরানোর এটাই একমাত্র উপায়।’
এদিকে, এর আগে ইয়াঙ্গন থেকে মায়ানমার সরকারের এক শীর্ষস্থানীয় মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি জানায়, দেশটির কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, রাখাইন প্রদেশ থেকে যে লক্ষ লক্ষ মুসলিম গত দুমাসে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে গেছেন, তাদের প্রত্যাবাসনের কাজ বাংলাদেশের জন্যই দেরি হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী অবশ্য এদিন কোনো মন্তব্য করেননি।