সাদ হারিরি প্যারিসে, তবে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে নয়’

লেবাননে সাদ হারিরি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এক সফরে প্যারিসে এসে পৌঁছেছেন। তার পদত্যাগকে ঘিরে তৈরি হওয়া সঙ্কট নিয়ে হারিরি শনিবার ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে বৈঠক করবেন বলে কথা রয়েছে।

এ নিয়ে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে সেটি প্রশমনের চেষ্টা করছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসির।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সাদ হারিরি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আকস্মিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দেন। এসময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ আনেন।

এর আগে লেবাননের ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং সাদ হারিরিকে প্যারিসে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

কিন্তু ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে পরে এটা পরিস্কার করতে হয়েছে যে তিনি তাকে ‘রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছেন না’ শুধু কয়েকদিনের সফরে প্যারিসে আসছেন।

সাদ হারিরির পদত্যাগ এখনো গৃহীত হয়নি। অনেকেই মনে করেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও হেযবোল্লাহর প্রভাবকে দুর্বল করতেই সৌদি আরব তাকে জোর করে আটকে রেখে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। কিন্তু সৌদি আরব এবং সাদ হারিরি- উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আওন রবিবার জানিয়েছেন যে হারিরি বুধবারের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। এক টুইট বার্তায় তিনি জানান, হারিরি তাকে ফোন করে জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সৌদি আরব বার্লিন থেকে তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেছিলেন যে সাদ হারিরিকে সৌদি আরব তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রেখেছে।

এই পরিস্থিতিতে সাদ হারিরি স্ত্রীকে সাথে নিয়ে তার ব্যক্তিগত বিমানে করে প্যারিসে এসে পৌঁছান।

ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন হারিরি
এর আগে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ত্যাগ করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। সৌদি আরব সফরে গিয়ে আকস্মিকভাবে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করার দুই সপ্তাহ পর তিনি রাজতান্ত্রিক দেশটি ত্যাগ করলেন বলে লেবাননের টেলিভিশন জানিয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন অবশ্য এখনো সাদ হারিরির পদত্যাগপত্র গ্রহণ বা নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেননি। তাই তাকে এখনো দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

সাদ হারিরির মালিকানাধীন লেবাননের ফিউচার টিভি শনিবার সকালে জানিয়েছে, সাদ হারিরি তার ব্যক্তিগত বিমানে সস্ত্রীক ফ্রান্সের লে বোরজেট বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।

হারিরিকে বহনকারী বিমানটি ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় লে বোরজেট বিমানবন্দরে পৌঁছাবে বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।

রিয়াদ ত্যাগ করার আগ মুহূর্তে সাদ হারিরি ইংরেজিতে একটি বিরল টুইট বার্তা পাঠান। তাতে তিনি দৃশ্যত জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েলের একটি বক্তব্যের জবাব দেন।

গ্যাব্রিয়েল শুক্রবার বার্লিন সফররত লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সৌদি আরবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আটক রয়েছেন বলেই হয়ত দেশটি ত্যাগ করতে পারছেন না। হারিরি অবিলম্বে লেবাননে ফিরে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন গ্যাব্রিয়েল।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সাদ হারিরি তার টুইট বার্তায় লেখেন, ‘আমি বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছি মিস্টার সিগমার গ্যাব্রিয়েল।’

সাদ হারিরির রাজনৈতিক দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ও লেবাননের দু’টি টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, সৌদি আরব ত্যাগ করার আগে হারিরি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন হারিরিকে ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছিলেন, লেবানন যেহেতু হারিরি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি তাই তাকে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় স্বাগত জানাতে প্যারিস প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বার্লিনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে রিয়াদে ডেকে পাঠানো হয়েছে।