
আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী গেম ব্লু হোয়েলের সকল লিংক ও মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সব মোবাইল কোম্পানির বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজ বন্ধে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার দুপুরে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
এর আগে গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ব্লু হোয়েল গেমসহ এ জাতীয় সকল অনলাইন গেম ও মোবাইল অপারেটরদের রাত্রিকালীন বিশেষ ইন্টারনেট অফার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়।
গত সপ্তাহে রাজধানীতে এই গেমে আসক্ত হয়ে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর প্রকাশ হলে থেকে ব্লু হোয়েল গেমটি নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই গেমটি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। অনেকেই হাসি ঠাট্টার ছলে গেমটি খেলে দেখার চ্যালেঞ্জও জানাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত. ব্লু হোয়েল মোটেও ইন্টারনেট ভিত্তিক অন্যান্য সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন কিংবা নিছক গেম নয়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক একটি ডিপওয়ে গেম। বলা হচ্ছে, যেসব কম বয়সী ছেলে-মেয়ে অবসাদে ভোগে, তারাই অসাবধানতাবশত এই গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো ক্লান্তি বা বিষণ্নতা দূর করার গেম নয়। আত্মহত্যার প্রবেশ পথ মাত্র।
ব্লু হোয়েল গেমে ৫০টি লেভেল রয়েছে। এক বা একাধিক কিউরেটর দ্বারা পরিচালিত এই গেমের শেষ লেভেলের টাস্কগুলো খুবই ভয়ংকর।
তবে প্রথম দিকের লেভেল ও তার টাস্কগুলো বেশ মজার হওয়ায় এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। নিয়ম অনুযায়ী একবার এই গেম খেললে বের হওয়া যায় না। কেউ বের হতে চাইলেও তাদের চাপে রাখতে পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয় বলে প্রচলিত আছে।
এই গেমের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। যেমন ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা, সারা গায়ে আঁচড় কেটে রক্তাক্ত করা, কখনো ভোরে একাকি ছাদের কার্নিশে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনে সময় কাটানো, ভয়ের সিনেমা দেখা ইত্যাদি। চ্যালেঞ্জ নেয়ার পর এসব ছবি কিউরেটরকে পাঠাতে হয়। ২৭তম দিনে হাত কেটে ব্লু হোয়েলের ছবি আঁকতে হয়। একবার এই গেম খেললে কিউরেটরের সব নির্দেশই মানা বাধ্যতামূলক। তার শেষের দিকের লেভেলে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বের হতে পারে না। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা। আর এর মাধ্যমেই ঘটে গেমের সমাপ্তি।