
নির্যাতনের শিকার হয়ে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে নাফ নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপের ডাঙ্গাপাড়া পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান,মিয়ানমার থেকে কমপক্ষে ৩৫ জন রোহিঙ্গা বহন করে শাহপরীর দ্বীপে আসছিল নৌকাটি। এসময় পশ্চিমপাড়া সমুদ্র উপকূলে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাটি ডুবে যায়। তাৎক্ষণিক ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পরে শিশু ও নারীসহ আট রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ১৫-২০ জন। খবর পেয়ে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগেও গত ২৮ সেপ্টেম্বর উখিয়ার ইনানি বিচ এলাকায় একশোর মত রোহিঙ্গাকে বহনকারী নৌকা ডুবে ২৩জন প্রাণ হারান। গত আগস্ট মাসের শেষদিকে মায়ানমারে সহিংসতার পর থেকে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার সময় এ নিয়ে ২৫টির মত নৌকাডুবির ঘটনায় ১৪৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দীর্ঘ দিনের বৈষম্য, হত্যা ও নির্যাতনকে কেন্দ্র করে গত ২৫ আগস্ট মুসলিম রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংঘাত শুরু হয়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হন। এরপর নিড়িহ রোহিঙ্গাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন শুরু করে সামরিক জান্তা। সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। শরণার্থীর স্রোত এখনো অব্যাহত আছে। মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। গত ২৫ অাগস্টে পর এখন পর্যন্ত ৫ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।