
এ বছর চামড়ার চাহিদামত মূল্য না থাকায় বিপাকে পড়েছেন গাইবান্ধার সাত উপজেলার খুচরা পাইকার ও ব্যবসায়ী ক্রেতারা। তাদের মতে প্রথমত চামড়া সংগ্রহ এবং লবন প্রয়োগসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াজাতের পর স্বল্পমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
গত বছরের ন্যায় লবণের মূল্য তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। লবণের দাম অতিরিক্ত ও ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেয়া মূল্যের চেয়ে বর্তমান সময় চামড়ার দাম কম থাকায় এ বছর ব্যবসায়ীরা অপুরনীয় লোকসানসহ তহবিল ঘাটতির সম্মুখিনে পড়বেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম পলাশবাড়ী সদরের কালীবাড়ী হাট তথা এখানে গড়ে ওঠা আড়ৎসহ কোরবানীর মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের দিন থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শহর ও গ্রাম ভেদে গরুর চামড়া ৬শ’ থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা, খাসির চামড়া ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা মূল্যে কিনেছেন খুচরা পাইকার ও ব্যবসায়ীরা। এখন এসব ফড়িয়া পাইকার ও ব্যবসায়ী ক্রেতাদের অনেকেই ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের নিকট কম মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে করতে হচ্ছে।
চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে জনৈক ক্রেতা জানান, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তিনি ৩শ’ ৮০টি গরু ও ১শ’ ১০টি খাসির চামড়া কিনেছেন। প্রতি গরুর চামড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকায় এবং খাসির চামড়া ১শ’ থেকে ৩শ’ টাকায় কিনেছেন। এসব চামড়া ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দেখেছেন।
ঢাকার পাইকারী ক্রেতারা যে দর হাঁকিয়েছেন ওই দরে চামড়া বিক্রয় করলে চরম লোকসানের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন ওইসব ফড়িয়া ক্রেতারা। তবে অনেকেই পরবর্তীতে আরো বেশি লোকসানের সমূহ সম্ভাবনা থাকায় ঢাকার পাইকারদের দেয়া মূল্যেই অনেকেই চামড়া বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর চামড়ার হাট গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর কালীবাড়ী হাট। হাটটি বুধবার ভোর থেকে বসবে। প্রতি বছর ঈদ-উল-আযহার পরের বুধবার রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক ঘেঁষে এ হাটটি বসে। এখানে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলা ছাড়াও জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিষ্ঠিত চামড়া ব্যবসায়ীরা আসেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার নামী-দামী ট্যানারী মালিকসহ চামড়া শিল্পের সাথে জড়িত বড় বড় ক্রেতারা এ হাটে চামড়া ক্রয়ের অপেক্ষায় থাকেন।
পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ স¤পাদক মিনু মন্ডল জানান, কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতের জন্য লবণ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কিন্তু এবারে লবণের মূল্য চড়া। কোরবানির ঈদে গোটা জেলার বিভিন্ন শ্রেণীর চামড়া ব্যবসায়ীরা অনন্তঃ ৫-৭ কোটি টাকার চামড়া ক্রয় করে থাকে।
কিন্তু এবার চামড়ার মূল্য কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। লবণের মূল্য বেশি এবং চামড়ার মূল্য কম থাকায় এ বছর আসলে কি পরিমাণ চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হবে তা এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এখনো সময় আছে। চামড়া ভবিষ্যত নিয়ে সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখুনি।
ব্যবসায়ীদের সার্বিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ দানে সরকারকে এখুনি উদ্যোগী হতে হবে। নচেৎ এ শিল্পের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাবে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চামড়া ব্যবসা ও শিল্পের সাথে জড়িত বৃহৎ জনগোষ্ঠি ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়বেন।