
বাংলাদেশ সরকার বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংসতা এবং চলমান সেনা অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, মায়ানমার তাদের সীমান্তে ল্যান্ড মাইন পেতেছে বলে বাংলাদেশ খবর পেয়েছে, মায়ানমারের কাছে এ বিষয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। খবর বিবিসির।
একই সাথে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে দ্রুত ফেরত নেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসেবে বলা হচ্ছে, এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা গত দু সপ্তাহে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এনিয়ে চতুর্থ দফায় মায়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হলো।
তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, বুধবার মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংসতার বর্ণনা তুলে ধরে অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
এই প্রতিবাদ সম্পর্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত সোয়া লাখের মতো মায়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে এসেছে। তাদের অবিলম্বে ফেরত নিতে বলা হয়েছে মায়ানমারকে।’
‘একই সাথে মায়ানমারের নৃশংসতার বিভিন্ন গল্প যা আমরা শুনছি এবং ছবি দেখছি বা প্রমাণ দেখছি। এই নৃশংসতা বন্ধ করার জন্য আমরা বলেছি। যদিও এটি মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু আমাদের দেশে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। সুতরাং অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে।’
গত দু’সপ্তাহে মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে গুলিতে আহত হয়ে এসেছিল। তবে গত সোমবার একজন নারী এবং দু’জন শিশু আসে ভিন্ন ধরনের ইনজুরি বা আঘাতের চিহ্ন নিয়ে।
তারা মায়ানমারের ভিতরে স্থল মাইনে আহত হয়ে থাকতে পারে বলে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিজিবি কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেছেন, ‘এটা আমরা শুনছি। এখন মনে হচ্ছে সীমান্তের ওপারে মায়ানমারের অংশে তারা ল্যান্ডমাইন পুঁতেছে।’
‘আমরা মায়ানমারকে বলেছি যে মায়ানমারের নাগরিকদের জানমাল রক্ষা বা তাদের নিরাপত্তা মায়ানমার সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বলেছি যে ধরণের নৃশংসতার চিত্র আমরা পাচ্ছি, তাতে দেখা যাচ্ছে, মায়ানমার তার নাগরিকদের সে ধরনের নিরাপত্তা দিচ্ছে না।’
মায়ানমার থেকে যে তিনজন ভিন্ন ধরণের ইনজুরি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তাদের ব্যাপারে বিজিবির কক্সবাজারের অধিনায়ক লে: কর্ণেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলছিলেন, ‘একজন মহিলার ডান পায়ের হাঁটুর নীচে উড়ে গেছে। পরদিন আবার দুইটা বাচ্চা এসেছে। ওদের একজনের বাম পা উড়ে গেছে।’
‘এটা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে বিস্ফোরণের কারণে এই ইনজুরি হয়েছে। কিন্তু কী ধরণের বিস্ফোরণ তা আমরা বলতে পারবো না। যেহেতু মায়ানমারের অংশে এটা হয়েছে। তবে স্থল মাইন বিস্ফোরণে এ ধরণের আহত হয়।’
এদিকে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তবর্তী টেকনাফ এবং উখিয়া থেকে রেড ক্রসসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এতদিন মায়ানমারের শুধু মংডু এলাকা থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে।
কিন্তু গত দু’দিন ধরে মংডু ছাড়াও মায়ানমারের অন্যান্য এলাকা থেকেও রোহিঙ্গারা আসছে।
টেকনাফের হোয়াইকং ইউনিয়নের মেম্বার জালাল আহমেদও বলছিলেন, তার গ্রামেও মংডুর বাইরে মায়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গারা আসছে।
স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে গ্রামে বা লোকালয়ে মিশে না যায়, সে জন্য তাদের এক জায়গায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার আসা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে এক জায়গায় রাখার জন্য উখিয়ার বালুখালী শরণার্থী শিবিরের কাছে বনবিভাগের জমি দেখা হচ্ছে।