
কোনো আওয়ামী লীগ নেতা তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করতে চাইলে এখন থেকে তাকে কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে।
সম্প্রতি ৫৭ ধারায় করা কয়েকটি মামলা নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্কের পর ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন জেলায় এ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। বিভিন্ন জেলা দলীয় নেতা-কর্মীদের টেলিফোনের মাধ্যমে এই নির্দেশ পাঠানো হয়।
টেলিফোনের মাধ্যমে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ কর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় কেউ মামলা করতে চাইলে যথাযথ প্রমাণ পত্র, তথ্য উপাত্তসহ উপযুক্ত অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ অমান্য করে বা অনুমতি না নিয়ে কারো বিরুদ্ধে এই ধারায় মামলা করলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
সম্প্রতি সংবাদ শেয়ার করে একজন সাংবাদিক ৫৭ ধারায় মামলার শিকার হয়েছেন। অপরদিকে খুলনায় ছাগলের মৃত্যুর সংবাদে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ছবি জুড়ে দেয়ায় এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এক বিচারকের ট্রেনে ওঠার কাহিনী ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ করায় এই ধারায় মামলা করা হয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য সবাই জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
৫৭ ধারার অপপ্রয়োগের কারণে নানান সমালোচনায় পড়তে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মীর কারণে যেন দলকে সমালোচনার মুখে পড়তে না হয়, সে জন্য সচেষ্ট হয়েছেন নেতারা। অভিযোগ উঠার পর সরকারের পক্ষ থেকেও ধারাটি সংশোধনের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।
তবে এই নির্দেশনার ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, দলীয় সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন জেলায় ফোন করে এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
এর আগে ৫৭ ধারায় মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। পাশাপাশি এই ধারায় মামলা গ্রহণের আগে পুলিশ সদর দপ্তরের আইন শাখার পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়।