
অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃংখলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়ে মামলাটি ওইদিন পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষে আনা সময় আবেদন গ্রহণ করে আজ এ সময় দিয়ে আদেশ দেয়। বিষয়টি আজ আপিল বিভাগে উত্থাপিত হলে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদন গহণ করে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রাখে।
মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় আপিল বিভাগ। সে রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃংখলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়। সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গতবছরের ২৮ আগস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ। ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিমকোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয়।
এর মধ্যে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ২৭ জুলাই সুপ্রিমকোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে চাকরিবিধির খসড়া দিয়ে এলেও সর্বোচ্চ আদালত তা গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য নিরসণে প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের কথা বলেন।